ঢাকাশুক্রবার - ৫ নভেম্বর ২০২১
  1. করোনাভাইরাস
  2. খেলা
  3. চাকরি
  4. দুর্ঘটনা
  5. ধর্ম
  6. বাণিজ্য
  7. বাংলাদেশ
  8. বিনোদন
  9. বিশেষ সংবাদ
  10. বিশ্ব
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চার শতাব্দিতে ঘটে যাওয়া চারটি মহামারি

somadanbd
নভেম্বর ৫, ২০২১ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সম্প্রতি Covid-19 এর প্রাদুর্ভাব চোখে পড়ার মতো না থাকলেও এক বছর পেছনে চলে গেলে এর আগ্রাসন সম্পর্কে মনে ভয় ঢুকে যায়
তবে অনেকেই ধারণা করেন প্রত্যেক শতাব্দীতে এরকম মহামারী পৃথিবীতে লাশের স্তুপ রেখে যায়। তবে ব্যাপারটি খুবই চিন্তার বিষয়, কেননা গত শতাব্দির হিসেব করলে আমরা এর যোগসুত্র পেতে পারি।
যেমন ১৭২০,১৮২০,১৯১৮ এবং ২০১৯ এই ৪ শতাব্দীতে মোট চারবার বিশাল মহামারী দেখা দিয়েছে এবং এদের একেকটি মহামারীর ধরণ একেক রূপ। অতএব এখন দেখা যাক এই চার শতাব্দীতে কিরকম ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়েছে।
১৭২০ সালে যে মহামারী বিস্তার করে তা হচ্ছে প্লেগ। যার উৎপত্তি মূলত ফ্রান্সের মারসেই এই শহর থেকে।
এটি একটি ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে রোগ যা সারা পৃথিবীর মানুষকে আক্রান্ত করেছিল। এ রোগের কারণে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ এবং সবচেয়ে বেশি মৃতের সংখ্যা ছিল এই ফ্রান্সেই। শুধুমাত্র মারসেই শহরেই 50 হাজারের মতো মানুষ মারা গিয়েছিল। এর সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো ইউরোপে এক ভয়াবহতা বিস্তার করেছিল। তখন ফ্রান্স ছিল লাশের শহর।

চার শতাব্দিতে ঘটে যাওয়া চারটি মহামারি

এই মহামারী ভারতেও আঘাত হেনেছিল। তবে অনেক বছর পর। সেখানে শুধু মাত্র ১২০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।
এই মহামারী নাজেহাল করে দিয়েছিল চিকিৎসকদের। কেউ ধরতেই পারছিলোনা মোকাবেলা রাস্তা। এরপর ১৮২০ সালে প্রভাব বিস্তার করে। এই কলেরা বিস্তার শুরু করে রাশিয়া থেকে। মূলত এই পানিবাহিত মহামারী আমাদের বাংলাদেশকেও ছাড়েনি।

প্রথমবার যখন কলেরা রাশিয়াতে বিস্তার করে তখন মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল।এটি একটি সংক্রামক রোগ; এর জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করে দেহের ক্ষুদ্রান্ত্রের পানি শুষে নেয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে।
তবে এই রোগের বিপজ্জনক চরিত্র হচ্ছে শরীরের পানির ব্যাপক ক্ষরণ ঘটিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর জীবন বিপদাপন্ন করে তোলে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের জন্য এই রোগটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কলেরা আক্রান্ত রোগীর জন্য দ্রুত চিকিৎসাব্যবস্থা না নেয়া হলে পানিশূন্যতার কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ কলেরায় প্রাণ হারিয়েছেন।

চীন, রাশিয়া ও ভারতে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে ৪ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ শতকে কলেরা সবচেয়ে বড় আঘাত হানে। এতে দুই দশকে দেশটির প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রাণ হারান।২০১৭ সালে ইয়েমেনে এক সপ্তাহে কলেরায় অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু হয়। কলেরার কারণে দেশটির রাজধানী সানায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এরপর ১৯১৮ সালে দেখা দেয় গুটি বসন্ত, যক্ষা। সারাবিশ্বে এর ভয়াবহতা ছিল প্রচুর। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকাতে প্রকোপ বিস্তার লাভ করেছিল।

 

বিশেষ করে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ১ লক্ষেরও অধিক মানুষ মারা গিয়েছিল। বর্তমানে এই যক্ষা রোগের চিকিৎসা এখন অনেকটা সহজলভ্য হয়ে গেছে।আর সে সময় গুটিবসন্তের ও প্রভাব মানবজাতির মধ্যে ব্যাপক ভাবে বিস্তার করে। আর গুটিবসন্ত মূলত একটি চর্ম জনিত রোগ। সর্বশেষ ২০১৯ সাল পৃথিবীতে এক বিশাল দাগ রেখে যায়। এই রোগের ভয়াবহতা পৃথিবীর সকলের কাছেই এখন পরিচিত। এর প্রকোপ পূর্ববর্তী সকল মহামারীকে হার মানিয়েছে। আর আমরা সকলেই জানি এই রোগের উৎপত্তি চীনের উহান শহর থেকে বিস্তার করে। আর খুব তাড়াতাড়ি এটা পৃথিবীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তবে করোনায় মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ইউরোপের দেশগুলোতে।

করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিশ্বে প্রকৃতপক্ষে কত মানুষ মারা গেছেন তা নির্দিষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন দেশের সরকারের দেয়া তথ্যমতে এই সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সংখ্যা দুই কোটির কাছাকাছি। বহু দেশে সরকারি হিসাবের বাইরে অসংখ্য মানুষ মারা গেছেন- যাদের হিসাব সরকারি খাতায় স্থান পায়নি। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যত গতিপথ কেমন হবে তা নির্ভর করে ব্যাপকহারে টিকা দেয়ার ওপর।বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, প্রতিটি দেশ যেসব তথ্য সরবরাহ দিয়েছে তাতে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা ৫০ লাখের অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ব্রিটেন৷ নথিভুক্ত সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি এই সব দেশে ঘটেছে৷ অর্থাৎ বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ২৮ শতাংশকে বাড়তি এই ধাক্কা সামলাতে হয়েছে৷

মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ৷ সে দেশে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪২৫,০০০

করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতিও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হবার পর প্রথম ১১ মাসে গোটা বিশ্বে পাঁচ কোটি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছিল৷ কিন্তু তারপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে সংখ্যাটি দ্বিগুণ হয়ে গেল৷
ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত করোনা ভাইরাসের আরও ছোঁয়াচে সংস্করণ এমন পরিস্থিতির জন্য অন্তত আংশিকভাবে হলেও দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে৷এমন বিপর্যয় সামলাতে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে একাধিক টিকা একে একে অনুমোদন পেলেও সেই টিকা উৎপাদন, বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা যাচ্ছে৷ প্রায় ৫৬টি দেশ এরই মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে৷
একমাত্র ইসরায়েল দেশের জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশকে কমপক্ষে টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে৷

আগেই বলেছি অঞ্চল হিসেবে ইউরোপ করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়ে পড়েছে৷ সেখানে প্রতি চার দিনে নতুন করে দশ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে৷ করোনা মহামারি শুরু হবার পর থেকে প্রায় তিন কোটি মানুষ সংক্রমণের শিকার হয়েছে৷তবে সুখের খবর হচ্ছে এখন এর প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার ফলে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে অনেক কমে গিয়েছে এবং মানুষ আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতেছে।এমনকি আমাদের দেশেও এই টিকা কার্যক্রম ভালোভাবে বজায় রয়েছে। এখন মানুষ অনেকটা শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারছে। জনজীবন আগের মতই সচল হয়ে গিয়েছে।

ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।এরকম আরোও খবরের জন্য আমাদের ফলো করতে পারেন ফেসবুকে

আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে। আমাদের ফেসবুক পেজঃ- সমাধান বিডি ডট কম।

ফেসবুকঃ- somadanbd.com

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।